ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের নেতৃত্বে ধর্মীয় কোনো ব্যক্তি এলেও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি থাকবে না।
শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতা ধর্মীয় ব্যক্তি হবেন কি না—এটি তার কাছে মূল বিষয় নয়। তাঁর মতে, নেতৃত্বে কে আসছেন এবং তিনি কীভাবে দেশ পরিচালনা করছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে কি না—সে প্রশ্নে তিনি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন নন। তবে নতুন নেতৃত্বকে ন্যায্য ও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প আবারও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা তখনই সম্ভব, যখন দেশটি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক মিত্রদের চাপ, ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা—এসব কারণেই ওয়াশিংটনের বক্তব্যে কিছুটা নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। তবু সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রেখে ইরানকে আলোচনায় আনাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :