ইরানি হামলায় মার্কিন ৩০ কোটি ডলার দামের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মার্চ ৭, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাটির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার এবং এটি আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিএনএনের বিশ্লেষিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করা থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এএন/টিপিওয়াই–২ রাডার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ওই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, একটি থাড ব্যাটারির মোট মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশ ব্যয় হয় রাডার প্রযুক্তিতে।

এদিকে ইরান আরও কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ঘাঁটি, কুয়েতের একটি সামরিক স্থাপনা এবং ইসরায়েলের একটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে। পরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানার কথাও দাবি করে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশযুদ্ধ পরিচালনা কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আগাম সতর্কীকরণ ও ফায়ার কন্ট্রোল রাডারের ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এরপর থেকেই ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার দাবি করে আসছে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ, এএফপি, তাসনিম