ফ্লাইট স্থগিত: মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি, নেই থাকা-খাওয়ার টাকা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বাংলাদেশ হজ মিশনের কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন হঠাৎ করে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে। এতে সম্প্রতি ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি দেশে ফেরার নির্ধারিত ফ্লাইট হারিয়েছেন।

অনেক যাত্রীর টিকিট বাতিল হয়ে যাওয়ায় নতুন করে টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে নতুন টিকিটের জন্য অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে আর্থিক সংকটে পড়েছেন অনেক যাত্রী।

বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম বলেন, “অনেক যাত্রী হোটেল ভাড়া বা খাবারের খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়ছেন। প্রতিদিনই তারা মিশনে এসে সহায়তা চাইছেন। আমরা সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।”

মক্কায় অবস্থানরত কয়েকজন যাত্রী জানান, তাদের দেশে ফেরার নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ার পর নতুন টিকিট কিনতে বলা হয়েছে, যার খরচ অনেকের পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে থাকার ও খাবারের ব্যয়ও যাত্রীদের নিজেকেই বহন করতে হচ্ছে।

হজ মিশনের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইনগুলো টিকিটের অর্থ ফেরত দেয়, তবে সেই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। এ কারণে অনেক যাত্রী দ্রুত দেশে ফিরতে নতুন টিকিট কিনে নেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও ব্যয় বেশি হওয়ায় আপাতত নিয়মিত ফ্লাইটের মাধ্যমেই পর্যায়ক্রমে যাত্রীদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু যাত্রী বিকল্প রুট ব্যবহার করে অন্য দেশের ট্রানজিট হয়ে বাংলাদেশে ফিরছেন বলেও জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।