রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করলেন জামায়াত আমির


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মার্চ ১২, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালে বিরোধী জোটের ওয়াকআউটের পর এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, কয়েকটি গুরুতর অভিযোগের কারণে তারা রাষ্ট্রপতির বক্তব্য সংসদে শোনা সমীচীন মনে করেননি।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংসদ জুলাই আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার মতে, যাদের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী শাসনামলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে সংসদে বক্তব্য গ্রহণ করা নিয়ে বিরোধী জোটের আপত্তি রয়েছে।

তিনি রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ উত্থাপন করেন। প্রথমত, অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সময় রাষ্ট্রপতি কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেননি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সে সময় হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ বা কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দ্বিতীয় অভিযোগ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে রাষ্ট্রপতি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ গ্রহণের কথা বলেছিলেন। তবে পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সেই বক্তব্য অস্বীকার করার অভিযোগ তোলেন তিনি, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

তৃতীয় অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত সংস্কার কাঠামো সম্পর্কিত একটি অধ্যাদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, এসব কারণে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বিরোধী জোট। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ বন্ধ রাখার জন্য তারা সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে সেই আহ্বানে সাড়া দেওয়া হয়নি।

বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদে ভবিষ্যতেও কোনো বিষয়ে আপত্তি বা অনিয়ম মনে হলে তারা রাজনৈতিক ও সাংসদীয় পদ্ধতিতে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।