মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের ধারাবাহিক হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় অনেক মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তা কৌশলগতভাবে ঘাঁটি ত্যাগ করে অন্যত্র অবস্থান নিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে অঞ্চলজুড়ে সামরিক কর্মীদের জন্য আবাসনের সংকটও তৈরি হয়েছে।
মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের একটি অংশ নিরাপত্তাজনিত কারণে সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে হোটেল বা ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে অবস্থান করছেন।
ইরানের আধা–সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আবাসিক এলাকায় অবস্থান নেওয়া মার্কিন সেনাদের সম্পর্কে তথ্য জানাতে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হাজার হাজার মার্কিন সেনা বিভিন্ন হোটেল ও ব্যক্তিগত আবাসনে অবস্থান করছে। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র নাকি স্থানীয় জনগণকে “মানবঢাল” হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। একই বিবৃতিতে মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এবং এ ধরনের তথ্য তাদের কাছে পাঠানোর কথাও বলা হয়।
এদিকে অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ওই হামলায় ফ্রান্সের একজন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
ম্যাক্রোঁ এই হামলাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন এবং এর জবাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
এর আগে ফরাসি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ইরবিল অঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ফরাসি সেনাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ছয়জন সেনা আহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নয়, সেখানে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক বাহিনীর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :