ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা নাকচ করে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানি গণমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো তিনি নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এর পর ৮ মার্চ তাকে উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি এখনো জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও দাবি করেছিলেন, মোজতবা খামেনি হামলায় আহত হয়ে থাকতে পারেন এবং তার অবস্থা গুরুতর হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রচারিত তথ্য সঠিক নয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম লিখিত বিবৃতি দেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক উপস্থাপক সেই বিবৃতি পাঠ করে শোনান। এতে তিনি বলেন, ন্যায়সঙ্গত উপায়ে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে—এমন যেকোনো আঞ্চলিক উদ্যোগকে ইরান স্বাগত জানাবে।
একই বিবৃতিতে তিনি হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে ইরানের অবস্থানও তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জাহাজ ছাড়া অন্য দেশগুলোর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ উন্মুক্ত থাকবে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আরাঘচি বলেন, এখন পর্যন্ত সংঘাত বন্ধের জন্য কার্যকর কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ আলোচনার টেবিলে আসেনি। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :