ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান চালিয়ে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করা, বিশেষত যাতে দেশটি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হতে না পারে। প্রস্তাবিত অভিযানের আওতায় ইরানের মজুত ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া কিংবা ধ্বংস করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্র, যেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সংবেদনশীল পারমাণবিক উপাদান সংরক্ষিত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে ইরানের ভূখণ্ডে কয়েক দিন বা তার বেশি সময় অবস্থান করতে হতে পারে, যা সংঘাতের মাত্রা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করবে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনায় এসেছে। এই অঞ্চলগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
একইসঙ্গে ইরানের তেল সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করে বলছে, এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর প্রতিক্রিয়াও হতে পারে তীব্র।
আপনার মতামত লিখুন :