এক পাইলট উদ্ধারে চার আকাশযান হারানোর দাবি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৫, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ন

ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক সামরিক আকাশযান হারিয়েছে—এমন দাবি করেছে ইরানের সামরিক ও রাষ্ট্রীয় সূত্রগুলো। তবে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিয়ে এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্পষ্টতা নেই, এবং বিভিন্ন পক্ষের তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অমিল দেখা যাচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত দুটি সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দক্ষিণ ইসফাহান অঞ্চলে এসব আকাশযান ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মার্কিন ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে ঘটনার দৃশ্যমান প্রমাণ থাকার দাবি করেন। একইসঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতেও এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ‘আক্রমণাত্মক তৎপরতা’ প্রতিহত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ওই পাইলট আহত হলেও বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছেন এবং তাকে দ্রুত ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানে সাফল্যের ইঙ্গিত দিয়ে একে ‘অত্যন্ত সাহসী উদ্ধার মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আকাশযান ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে তথ্যযুদ্ধও সমানতালে চলতে থাকে, ফলে এমন ঘটনায় বিপরীতমুখী বর্ণনা পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাস্তব পরিস্থিতি নির্ধারণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই এখনো জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।