বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

৮ হাজার কোটি টাকার তেল পাইপলাইন ও মজুত সক্ষমতা ফেলে রেখেছে বাংলাদেশ


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১০, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। বড় জাহাজ থেকে সরাসরি পাইপলাইনে তেল খালাস ও পরিবহনের এই আধুনিক ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় দেশের জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২৪ সালে শেষ হলেও এখনো অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো ব্যবহার না করেই পড়ে আছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারির তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির আওতায় বঙ্গোপসাগরে একটি ভাসমান বয়া, প্রায় ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন এবং ছয়টি বিশাল স্টোরেজ ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন তেল মজুতের সক্ষমতা তৈরি হলেও ট্যাংকগুলো বর্তমানে খালি রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ক্রুড অয়েলের জন্য তিনটি ট্যাংকের প্রতিটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার কিলোলিটার এবং ডিজেলের জন্য আরও তিনটি ট্যাংকের প্রতিটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৬ হাজার কিলোলিটার। এই অবকাঠামো চালু হলে দেশে এক মাসের ক্রুড অয়েল ও এক সপ্তাহের ডিজেল মজুত রাখা সম্ভব হতো।

বর্তমানে বড় জাহাজ থেকে আনা তেল ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে কর্ণফুলী চ্যানেল হয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নেওয়া হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসপিএম চালু হলে একই কাজ ১১ দিনের পরিবর্তে প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা সম্ভব হতো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প পুরোপুরি চালু হলে বছরে বিপুল পরিমাণ সময় ও অর্থ সাশ্রয় ছাড়াও পরিবহনজনিত অপচয় ও পরিবেশগত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতো।

তবে প্রকল্পটি আটকে আছে মূলত অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে। আগে বিশেষ আইনের আওতায় দরপত্র ছাড়াই পরিচালনার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরবর্তীতে সেই বিধান বাতিল হওয়ায় নতুন করে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়, যা এখনো শেষ হয়নি।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দরপত্র মূল্যায়ন চলছে এবং দ্রুত অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটি পরিচালনার জন্য একটি পৃথক কোম্পানি গঠন করা হলেও আপাতত ঠিকাদারি ব্যবস্থায় চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি অনিশ্চয়তার সময়ে এই অবকাঠামো চালু থাকলে তা দেশের জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনতে পারত। তবে দীর্ঘসূত্রতা ও সিদ্ধান্তগত বিলম্বে বিপুল ব্যয়ের প্রকল্পটি এখনও কার্যত অকার্যকর অবস্থায় রয়ে গেছে।