এসএসসি পরীক্ষায় ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ পুনর্বহাল—শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কঠোর বার্তা


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ন

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন করে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরব বহিষ্কারের বিধান কার্যকর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পরীক্ষানীতিমালায় এই ব্যবস্থার পুনর্বহালের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষাকেন্দ্রে সরাসরি হাতেনাতে নকল প্রমাণিত না হলেও, সন্দেহজনক আচরণ—যেমন অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলা, ঘন ঘন ঘাড় ঘোরানো বা দেখাদেখির চেষ্টা—এ ধরনের কার্যকলাপকে অসদুপায় হিসেবে বিবেচনা করে দায়িত্বরত পরিদর্শক ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ প্রয়োগ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের বিষয়টি জানতে পারেন না; তবে পরীক্ষার পর তার উত্তরপত্র বাতিল হিসেবে গণ্য হয়।

পরীক্ষা পরিচালনা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র বিশেষভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার নির্দিষ্ট অংশ অক্ষত রেখে পর্যবেক্ষকের বিস্তারিত প্রতিবেদনসহ আলাদা প্যাকেটে তা জমা দিতে হবে। প্যাকেটের ওপর লাল কালি দিয়ে ‘Reported’ উল্লেখ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যাতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত থাকে এবং পরবর্তী যাচাই প্রক্রিয়া সহজ হয়।

এছাড়া, নীরব বহিষ্কারের ক্ষেত্রে কারণ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা পর্যবেক্ষকের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এ ধরনের বহিষ্কারের পরও পরীক্ষার্থী পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারবে। তবে তার পরবর্তী সব পরীক্ষার উত্তরপত্রও আলাদা প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া হবে এবং পূর্বের ঘটনার উল্লেখ থাকবে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবস্থা একদিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে তাৎক্ষণিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে সহায়ক হলেও, অন্যদিকে এটি পরীক্ষার্থীদের জন্য মানসিক চাপের কারণও হতে পারে। কারণ, পরীক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত বুঝতেই পারেন না যে তার খাতা বাতিল হতে পারে। ফলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে কঠোর বার্তা দিতেই এই পদ্ধতি পুনর্বহাল করা হয়েছে। নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের নজরদারি প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন তারা।