মার্কিন পারমাণবিক ও মহাকাশ গবেষণা বিজ্ঞানীদের একের পর এক মৃত্যু ও নিখোঁজ—উদ্বেগে গোয়েন্দা মহল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উচ্চমাত্রার গোপন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ধারাবাহিক ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৯ থেকে ১০ জন গবেষকের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে, যাদের অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঘটনাগুলো কাকতালীয় নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “আমরা খুব শিগগিরই এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট উত্তর পাব বলে আশা করছি।”

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ বা নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং উন্নত জ্বালানি প্রযুক্তি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ঘটনাগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, তবে প্রয়োজন হলে সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করবে।

অন্যদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব বলেছেন, প্রতিটি ঘটনাই পৃথকভাবে তদন্ত করা উচিত এবং এখনই এগুলোকে কোনো সমন্বিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

তবে সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস সুইকার সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গুপ্তচরবৃত্তি বা লক্ষ্যভিত্তিক অপহরণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির প্লাজমা ও ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো সংগঠিত যোগসূত্র রয়েছে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ধারাবাহিক ঘটনার কারণে বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা পর্যায়ে বাড়তি নজরদারি ও পর্যালোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাগুলো কাকতালীয় নাকি এর পেছনে বৃহত্তর কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে—তা নিশ্চিত হতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।