সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক গল্প বলার ওপর জোর

সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চিত্রনাট্য নির্মাণে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ন

বিনোদন অঙ্গনে জেন্ডার সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল চিত্রনাট্য নির্মাণের লক্ষ্যে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৬০ জন চিত্রনাট্যকার অংশ নেন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। তাই টেলিভিশন ও অনলাইনভিত্তিক নাটকে নারী-পুরুষের ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন এবং সমাজে বিদ্যমান নেতিবাচক জেন্ডার ধারণা দূরীকরণে সচেতন ভূমিকা রাখা জরুরি। সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গল্প বলার মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব বলেও তারা মত দেন।

প্রশিক্ষকরা চিত্রনাট্যকারদের মধ্যে একটি শক্তিশালী পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও বাস্তবধর্মী কনটেন্ট তৈরি করা যায়। কর্মশালায় বিশেষভাবে আলোচিত হয় চরিত্রায়ণে ক্ষমতার ভারসাম্য, সংলাপে সংবেদনশীল ভাষার ব্যবহার এবং সমাজে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের উপস্থাপন।

নাট্যকার ও নির্মাতা মাসুম রেজা বলেন, নারীর চরিত্রায়ণে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে এসে তাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের অবস্থানে তুলে ধরতে হবে। একইসঙ্গে বাস্তবসম্মত ও যুক্তিনির্ভর চরিত্র নির্মাণের ওপরও জোর দেন তিনি।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, নাট্যকার ও পরিচালক মাসুম রেজা এবং অভিনেত্রী ও শিক্ষাবিদ ওয়াহিদা মল্লিক জলি। তারা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আন্তঃক্রিয়ামূলক আলোচনার মাধ্যমে চিত্রনাট্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই কর্মশালাটি বাস্তবায়ন করেছে একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগ। এতে সহযোগিতা করে টেলিভিশন নাট্যকারদের সংগঠন। সংশ্লিষ্টরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদে একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল মিডিয়া পরিবেশ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।