যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্ধারিত সংলাপে অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অবরোধ বহাল রেখে আলোচনায় বসার কোনো আগ্রহ নেই তেহরানের।
ইরানি অবস্থান অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত সামরিক অবরোধ কার্যকর থাকা অবস্থায় সংলাপের পরিবেশ তৈরি হয়নি। তাদের দাবি, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে কূটনৈতিক সমাধান আদায়ের চেষ্টা আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী এবং এতে আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী জাহাজ চলাচলে কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই অবরোধের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে তেহরানের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রতিদিন শত কোটি ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশটি।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে তার সফর বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
যদিও ট্রাম্প পূর্বে দাবি করেছিলেন যে তার প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্য রওনা হয়েছেন, ইরানের সর্বশেষ অবস্থান সেই প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধ ও পাল্টা অবস্থানের এই টানাপোড়েন চলতে থাকলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকাও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এবং সামরিক চাপের সমান্তরাল প্রয়োগ সংলাপের পথকে জটিল করে তুলছে। স্থিতিশীল সমাধানের জন্য অবরোধ শিথিল ও পারস্পরিক ছাড়ের প্রয়োজনীয়তার কথাই জোর দিয়ে বলছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
আপনার মতামত লিখুন :