বাজার মূলধন কমলো তিন হাজার কোটি টাকা


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে টানা অস্থিরতা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললেও সেটি স্থায়ী হবে কিনা—এই প্রশ্নে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সামান্য ১ পয়েন্ট কমে ৫,২৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সময়ে ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ কমে দাঁড়িয়েছে ১,৯৯০ পয়েন্টে। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস সামান্য বেড়ে ১,০৬৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

সূচকে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও বাজার মূলধনে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা কম। বিশ্লেষকদের মতে, বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে বিক্রির চাপ এই পতনের প্রধান কারণ।

লেনদেনের চিত্রে অবশ্য ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন ২২ শতাংশ বেড়ে ৮১৩ কোটির বেশি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একাংশ কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ নেওয়ায় লেনদেন বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে প্রকৌশল খাত সর্বোচ্চ ১৭.২ শতাংশ লেনদেন দখল করে শীর্ষে রয়েছে। এরপর ওষুধ ও রসায়ন খাত ১১.৬ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাত ১০.৩ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকায় রয়েছে। ব্যাংক ও বস্ত্র খাতও উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করেছে।

সপ্তাহজুড়ে দরপতনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ার, যার মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, পূবালী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ফলে বাজারে আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং করপোরেট আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।