বাংলাদেশের তরুণ পেস সেনসেশন নাহিদ রানা’র বিধ্বংসী বোলিংয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২০০ রানের আগেই গুটিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৪৮.৪ ওভারে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। ফলে সিরিজে টিকে থাকতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৯ রানের।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের চাপে পড়ে কিউই ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের পাওয়ার প্লে অর্থাৎ প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ২৮ রান তুলতেই ২ উইকেট হারায় তারা। এই দুই উইকেটই তুলে নেন নাহিদ রানা, যিনি শুরু থেকেই গতির ঝড় তোলেন।
ম্যাচের অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউ করে প্রথম সাফল্য এনে দেন নাহিদ। পরের ওভারের প্রথম বলেই উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। মাত্র ১ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ শিবিরে নিয়ে আসেন এই তরুণ পেসার।
অন্য প্রান্ত থেকে তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামও দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। প্রথম স্পেলেই তারা চাপ তৈরি করেন এবং উইকেটের চারপাশে রান আটকে রাখেন।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন নিক কেলি, যিনি ৮৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। তবে তার সঙ্গীরা নিয়মিত বিরতিতে ফিরে যাওয়ায় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। টম ল্যাথাম (১৪) আউট হন সৌম্য সরকারের শিকার হয়ে। ৫২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পরও কিউইরা পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
মধ্যপর্যায়ে নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাসের ৫৬ রানের জুটি কিছুটা স্থিতি আনে, তবে তা বড় ইনিংসে রূপ নিতে ব্যর্থ হয়। এরপর রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের ধারাবাহিক আঘাতে দ্রুত ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ।
নাহিদ রানা নিজের শেষ ওভারে জেইডেন লেনক্সকে বোল্ড করে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। তিনি ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকার। এর আগে একই ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড, আর বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় সিরিজে টিকে থাকার জন্য ১৯৯ রানের লক্ষ্য।
আপনার মতামত লিখুন :