জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চরম উত্তেজনা: ফাঁকা হরমুজ প্রণালী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২০, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ন

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ প্রায় জাহাজশূন্য হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক শিপ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম MarineTraffic–এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় মাত্র তিনটি জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারই খালি ছিল, যা পরিস্থিতির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একই সূত্র জানায়, সোমবার ভোরে ‘নোভা ক্রেস্ট’ নামের একটি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার উপসাগর ত্যাগ করেছে। তুর্কি মালিকানাধীন এই জাহাজটি চলতি মাসের শুরুতে ইরাকের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এর আগে রাশিয়ার তেল পরিবহনের অভিযোগে জাহাজটির ওপর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা Windward জানিয়েছে, গত শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর অন্তত ১৩টি জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিয়ে জানা গেছে, একই দিনে একটি কন্টেইনার জাহাজে গুলি চালানো হয় এবং আরও দুটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর ফলে রবিবার পুরো দিনজুড়ে এই প্রণালী দিয়ে কোনো ট্যাঙ্কার চলাচল করেনি। যদিও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নিরাপত্তার কারণে সব জাহাজ তাদের অবস্থান প্রকাশ করে না।

শিপিং পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান Ambrey জানিয়েছে, ভিএইচএফ রেডিওতে হুমকি পাওয়া মাত্রই জাহাজগুলোকে তাদের যাত্রাপথ বাতিল করে নিরাপদ স্থানে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের অভিযোগ, ইরানি নৌবাহিনী তাদের অগ্রসর না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ। রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করে, যা ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী মার্কিন নৌ অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল। সতর্কতা উপেক্ষা করায় গুলি চালিয়ে জাহাজটি দখলে নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।

এর জবাবে ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল রপ্তানি এই পথেই সম্পন্ন হয়।