স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকের মরদেহ উদ্ধার; পলাতক স্বামীকে খুঁজছে পুলিশ

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ৯, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তার তিন শিশু সন্তান এবং এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাউৎকোন এলাকার একটি ভাড়া বাসায়।

শনিবার (৯ মে) সকালে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহতরা হলেন—শারমিন বেগম (৩২), তার মেয়ে মীম (১৪), হাবিবা (১০), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ভাই রসুল মিয়া (২২)। তারা মূলত গোপালগঞ্জ জেলা শহরের বাসিন্দা ছিলেন এবং জীবিকার প্রয়োজনে গাজীপুরে বসবাস করতেন।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর থেকে শারমিনের স্বামী ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার ভোরে অভিযুক্ত ফুরকান নিহতদের স্বজনদের মোবাইল ফোনে হত্যার বিষয়টি জানায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ দেখতে পান এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটিতে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ হতো। তবে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।

প্রতিবেশী আমান উল্লাহ বলেন, “ফুরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যে ঝগড়া হতো। কিন্তু তিনটি শিশু সন্তানসহ এতজনকে হত্যা করবে, এটা কেউ ভাবতে পারেনি।”

আরেক প্রতিবেশী জাহানারা আক্তার জানান, “শুক্রবার বিকেলেও বাচ্চাগুলো উঠোনে খেলছিল। সকালে চিৎকার শুনে এসে দেখি ঘরের ভেতর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে।”

কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিকভাবে গৃহকর্তা ফুরকান মিয়াকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।