বঙ্গোপসাগরের আকাশে দেখা রহস্যময় আলো, ভারতের অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার ইঙ্গিত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ন

বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী আকাশে শুক্রবার রাতে দেখা যাওয়া রহস্যময় আলোর উৎস নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এটি ছিল ভারতের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৫’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের অংশ।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে শনিবার জানায়, ওড়িশা উপকূলের এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে সফলভাবে অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রে এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তি যুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই একাধিক ওয়ারহেড পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেডগুলো ভারত মহাসাগরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে। পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ও জ্বালানি নির্গমনের আলোকচ্ছটা বঙ্গোপসাগরীয় আকাশে দৃশ্যমান হয়, যা বাংলাদেশসহ উপকূলীয় বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ প্রত্যক্ষ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ বায়ুমণ্ডলে ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি দহন ও গতি পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের উজ্জ্বল আলোকরেখা তৈরি হয়, যা দূরবর্তী অঞ্চল থেকেও দেখা যেতে পারে।

অগ্নি-৫ ভারতের দীর্ঘপাল্লার অন্যতম কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র। এটি প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতাও রয়েছে। এমআইআরভি প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে পৃথকভাবে হামলা চালানো সম্ভব।

এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো এমআইআরভি সক্ষম অগ্নি-৫-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল ভারত। সর্বশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে দেশটির কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

ভারতের অগ্নি সিরিজের অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র—অগ্নি-১, অগ্নি-২, অগ্নি-৩ ও অগ্নি-৪—এর পাল্লা ৭০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে। অগ্নি-৫ যুক্ত হওয়ায় দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।