যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ শেষে ইসরায়েল ও লেবানন চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের আলোচনা ছিল ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’।
পিগোট বলেন, গত ১৬ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
গত ২ মার্চ দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরায়েলের দাবি ছিল, লেবাননভিত্তিক শিয়াপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
টানা প্রায় দেড় মাস সংঘাত চলার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও লেবানন। আগামী রোববার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা আরও দেড় মাস বহাল থাকবে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে দক্ষিণ লেবাননে কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গত এক মাসে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিকও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা জীবিকার তাগিদে সেখানে কাজ করছিলেন।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক সংলাপকে কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক দশক পর এই প্রথমবারের মতো দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিলেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, সামরিক উত্তেজনা কমানো এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে দুই দেশের জন্য একটি নতুন ‘নিরাপত্তা লাইন’ প্রস্তাব করবেন বলে জানিয়েছেন টমি পিগোট।
তিনি আরও বলেন, আগামী জুনের শুরুতে ফের ওয়াশিংটনে নতুন দফা বৈঠকে বসবেন ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা।
যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, এই ধারাবাহিক সংলাপ দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :