পাকস্থলীতে ৮০ ক্যাপসুল কোকেন নিয়ে শাহজালালে এলেন তানজানিয়ার নাগরিক


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ২১, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর Hazrat Shahjalal International Airport–এ মাদক পাচারের অভিযোগে তানজানিয়ার এক নাগরিককে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। প্রাথমিক তদন্তে তার পাকস্থলীতে বিপুল পরিমাণ কোকেনভর্তি ক্যাপসুল থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, আবুল নাসের বাকারি জহা নামের ওই যাত্রী বুধবার সকালে Ethiopian Airlines–এর একটি ফ্লাইটে ইথিওপিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয় এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

প্রথম দফায় লাগেজ স্ক্যানিং ও দেহ তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া না গেলেও আচরণগত অসঙ্গতি দেখে কর্তৃপক্ষ আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে চিকিৎসা পরীক্ষার অংশ হিসেবে এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান করানো হলে তার পাকস্থলীতে একাধিক ক্যাপসুল সদৃশ বস্তু শনাক্ত হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে তার পাকস্থলীতে প্রায় ৮০টি ক্যাপসুল রয়েছে এবং সেগুলোতে কোকেন বহন করা হচ্ছিল। ইতোমধ্যে কয়েকটি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি ক্যাপসুল বের করার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলগুলোতে প্রায় ১ কেজির বেশি কোকেন থাকতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে মাদকটির ধরন ও পরিমাণ নিশ্চিত করতে পরীক্ষাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীরা সম্প্রতি “বডি ক্যারিয়ার” বা মানবদেহ ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের কৌশল বেশি ব্যবহার করছে। এতে যাত্রীরা ক্যাপসুল আকারে মাদক গিলে ফেলে বিভিন্ন দেশে প্রবেশের চেষ্টা করে, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়াকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত কিছু রুটকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও কাস্টমস আইনের আওতায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা এই চালানের পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।