ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত মার্চ মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা ৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ০১ ডলার বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে।
তেলের বাজারে এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার অগ্রগতি। শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করতে পারে।
এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখা হবে এবং সেখানে কোনো ধরনের টোল আরোপ করা হবে না। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত কমে আসছে। এর ফলে তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার রয়টার্সকে বলেন, “বিনিয়োগকারীরা এখন তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাবও দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।”
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। গত কয়েক মাস ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই পথের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল। সম্ভাব্য সমঝোতার ফলে সেই চাপ কমতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে আরও স্থিতিশীলতা আসতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আপনার মতামত লিখুন :