২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডজনিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফিফার এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন দেশের কোচ ও ফুটবল বিশ্লেষকরা।
শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের সময় মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ করেন। তিনি বলেন, “আমার জানা ছিল না, ফিফার জন্য ৫ জুলাই আর ১ এপ্রিল (এপ্রিল ফুল) একই দিন।” তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, ফিফার সিদ্ধান্তটি বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং ফুটবলের ন্যায়সংগত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিক্রিয়া
বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (RBFA) এক বিবৃতিতে জানায়, ফিফার এই সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত। সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বকাপে সব দলের জন্য সমান সুযোগ এবং ফেয়ার প্লে নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত ফিফার প্রধান দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত যেন আর না আসে, সে বিষয়ে তারা কাজ করবে।
কোর্তোয়ার বিস্ময়
বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বলেন, ম্যাচের মাত্র একদিন আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্যই বিস্ময়কর। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বেলজিয়াম মাঠের খেলাতেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চায়।
নরওয়ে কোচেরও সমালোচনা
ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের কোচ স্টেল সোলবাকেনও ফিফার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তার মতে, ভিএআরের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর দেওয়া সরাসরি লাল কার্ড এভাবে স্থগিত করা ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে শাস্তির ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
কেন বিতর্ক?
রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বালোগুন। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, এমন লাল কার্ডের পর পরবর্তী ম্যাচে খেলতে না পারার কথা। তবে ফিফা তাদের শৃঙ্খলা বিধির ২৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে তার নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে আর কোনো বাধা থাকছে না যুক্তরাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ডের।
রোনালদোর নজিরও টানা হয়েছে
ফিফা জানিয়েছে, অতীতেও একই ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর একটি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে সমালোচকদের দাবি, এমন সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এবং প্রয়োগের মানদণ্ড স্পষ্ট নয়।
আপনার মতামত লিখুন :