অগ্রণী হাউজিং এমডি-কাণ্ড: ‘চাঁদাবাজি নয়, পাওনা টাকা চাইতেই গিয়েছিলেন লিটু’—স্ত্রীর দাবি


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ৬, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ন

বরিশালের আলোচিত অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর ও জোর করে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এনেছেন প্রধান অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর স্ত্রী মৌসুমি আক্তার লুবনা।
তিনি দাবি করেছেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক বা চাঁদাবাজির নয়; বরং দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক পাওনা টাকা আদায় করতে না পারার ক্ষোভ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লুবনা বলেন, লিটু দীর্ঘদিন অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে তিনি কোনো লভ্যাংশ ছাড়াই মাত্র ১২ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছেন। বাকি অর্থ ও লাভের হিসাব বারবার চাইলেও কর্তৃপক্ষ তা দেয়নি। এ কারণেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

‘রাজনীতি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পর্ক নেই’

লুবনা বলেন, ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সঠিক নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিটু কোনো চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে যাননি; বরং নিজের পাওনা টাকা ফেরত চাইতেই অফিসে গিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া আবুল কালাম আজাদও অগ্রণী হাউজিংয়ের একজন পরিচালক এবং তিনিও একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

আরও পরিচালকদের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক মাহাবুবুর রহমান জানান, তিনি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি মূলধন কিংবা লাভের কোনো অংশই ফেরত পাননি। তার দাবি, শুধু তিনি নন, এমডির বড় ভাইও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন।

প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেন ভুক্তভোগীরা

সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করে বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ উদ্ধার করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পূর্বের অভিযোগ কী ছিল

এর আগে এমডি আব্দুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করেছিলেন, লিটু ও তার সহযোগীরা অফিসে ঢুকে তাকে মারধর করেন এবং জোর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক ও একাধিক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা হওয়ার পর পুলিশ লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও ছড়িয়ে পড়ে।