এবার ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১০, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ন

ফ্যাসিবাদী শাসনের দীর্ঘ সময়ের প্রভাবে বাংলাদেশ ঋণ ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা। এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘের এসডিজির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজির মূলনীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’-এর সঙ্গে সরকারের জননীতিরও সামঞ্জস্য রয়েছে। সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করা হবে।

তাঁর ভাষ্য, বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও কর্মসূচিতে জনকল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গে এমডিজি ও এসডিজির লক্ষ্যগুলোর উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।

তিন ‘আর’ কৌশলে পুনর্গঠন

এসডিজি বাস্তবায়ন ও স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের অর্জন ধরে রাখতে সরকার ‘রিকভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন’ বা তিন ‘আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ কৌশলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক স্থিতিশীলতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন—সবকিছু একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভে’ দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা ও সুশাসনের বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্যামিলি, কৃষক ও ই-হেলথ কার্ড

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই সামাজিক সুরক্ষা ও নাগরিক সেবা সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড।

এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্পোর্টস কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি মেয়াদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিন গ্রামে ‘এসডিজি ভিলেজ’

এসডিজি স্থানীয়করণের পাইলট মডেল হিসেবে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপের পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের নাফানগর—এই তিনটি গ্রামকে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এসব এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ‘ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট’, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি সমন্বিতভাবে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

সফল হলে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য গ্রামেও এ মডেল সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র’

এসডিজি বাস্তবায়ন কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।

আগামী দিনের রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চায়, যেখানে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা থাকবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারকে সর্বজনীন করে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সবার জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।