হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৫টি তেলবাহী ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে তেহরান। একই সঙ্গে এসব জাহাজের বিরুদ্ধে জরিমানা, আটক বা জব্দের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা বা নিয়ম না মানা জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সতর্কতা দিয়েছে ইরান।
ইরানের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এসব জাহাজ ভবিষ্যতে প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একইভাবে তালিকাভুক্ত জাহাজের সঙ্গে অন্য কোনো জাহাজ পণ্য বা তেল স্থানান্তরের কাজে যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজও ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।
তবে ইরানের ঘোষণায় কালো তালিকাভুক্ত ৪৫টি ট্যাংকারের নাম, পতাকা বা জাতীয়তা এবং তারা ঠিক কোন নিয়ম ভঙ্গ করেছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন পদক্ষেপ
ইরানের এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে চাপে ফেলতে ওয়াশিংটনের কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ক্ষেত্রে জরিমানা, আটক বা জব্দের মতো পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে ইরান। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
তেলবাজারে বাড়তে পারে অনিশ্চয়তা
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই জলপথ দিয়ে বিশ্ববাজারে যায়।
ফলে জাহাজ চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ, আটক বা তেল পরিবহনে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা ও পরিবহন ব্যয়ে চাপ পড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক তেলের দামেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে ইরানের নতুন সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ কতটা কঠোর হবে এবং তালিকাভুক্ত ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিই নজরে রাখছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :