ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে জন্য নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট। খবর আল জাজিরার।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ইরান সম্পূর্ণরূপে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতির প্রতিটি লাইফলাইন ছিন্ন করা হবে।।
তিনি জানান, বিশ্বের কোনও দেশ ও কোম্পানিগুলো যেন তেহরানের সঙ্গে কোনও ধরনের ব্যবসা করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে তেলসহ ইরানের আয়ের সমস্ত উৎসকে লক্ষ্যবস্তু করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো তেহরান সম্পূর্ণ একঘরে না হওয়া পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী শাসনকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন ছিন্ন করা।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যদি কোনও দেশ বা সত্তা ‘লেনদেনে সহায়তা করে এবং এমন কোনো ইকোসিস্টেমের অংশ হয় যা ইরানের তেলকে অর্থে এবং সেই অর্থকে নিপীড়নের হাতিয়ারে রূপান্তর করে, তবে তাদেরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’
ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার এই ক্যাম্পেইনের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানিকে প্রতিহত করতে ফ্রান্সের উপকূলে মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক ল্যান্ডিংয়ের সঙ্গে তুলনা করে বেসেন্ট একে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বলেও অভিহিত করেছেন।
বেসেন্ট জানান, বিশ্বনেতাদের ফোন করে ‘ইরানের সরকারের সঙ্গে তাদের সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার অনুরোধ জানাচ্ছেন’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে, তারা আমাদের অংশীদারত্বের সুফল ভোগ করবে। আর যারা নিজেদেরকে ইরান সরকারের সঙ্গে যুক্ত রাখবে, তাদেরও একঘরে দশার ভাগীদার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।’
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ‘ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি লাইফলাইনকে’ টার্গেট করা হয়েছে। সেগুলো হলো–ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল এবং নৌপরিবহন।
আপনার মতামত লিখুন :