নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৯৫, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৬, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ন
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৯৫, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রসুয়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এখনো কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটক ও বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে ভোতকোশি নদীর তীরবর্তী জনবসতি ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শত শত মানুষ কাদা ও বন্যার পানির নিচে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা পিটিআই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের ভোতকোশি নদীর আশপাশের এলাকা। উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।

বরফধস ও ভূমিকম্পে আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত

নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্তের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লেন্দে নদীতে বরফধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে যায়। এতে পানি জমে থাকার পর হঠাৎ তা নিচের দিকে নেমে আসে।

তিনি জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকে নেপালে আকস্মিক বন্যার পানি নেমে আসার সময় তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের কম্পনে বরফের স্তর সরে গিয়ে আটকে থাকা পানি একসঙ্গে ভোতকোশি নদীতে নেমে আসে।

কান্তিপুর টিভিকে রিজান ভক্ত বলেন, চীনা বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যেও বরফধসের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে বন্যার সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিব্বতের কৈলাশ-মানস সরোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও অঞ্চলটির ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।