সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করার প্রতিবাদে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, নির্ধারিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল সংসদে উত্থাপন করা হলে বিরোধী দল এতে অংশ নেবে না।
পরে রাত ৮টা ৬ মিনিটে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান। সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার পর তারা গণমাধ্যমকে ব্রিফ করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
১৬ অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে এসব অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হয়নি। ফলে সেগুলো কার্যকারিতা হারায়। একই সময়ে সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।
কার্যকারিতা হারানো অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশও ছিল। সরকার জানিয়েছিল, এসব অধ্যাদেশ আরও যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ নতুন বিল আকারে সংসদে আনা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের নতুন খসড়া তৈরি করা হয়।
মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়েও বিতর্ক
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলনের জন্য চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে একটি বিল পাস করা হয়েছিল। তখন সরকার জানিয়েছিল, অধিকতর পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনের আইনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
এরপর গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া এবং ১০ আগস্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়।
খসড়া নিয়ে উদ্বেগ
দুটি আইনের খসড়া অনুমোদনের পর থেকেই মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খসড়ার কয়েকটি বিধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের সংসদ থেকে ওয়াকআউট নতুন করে আইন দুটির বিষয়বস্তু, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন :