প্রথম বহরে বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাবেন ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৮, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
প্রথম বহরে বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাবেন ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শর্তসাপেক্ষে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ প্রথম ধাপে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ‘জিরো কস্ট’ ব্যবস্থায় নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। বিমানভাড়াসহ অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো খরচ কর্মীদের বহন করতে হবে না। প্রথম বহরটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

৩৩৮ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ

২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের এখতিয়ার দেশটির সরকারের হাতে রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বাংলাদেশ সরকার কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আলোচনা করেছে।

মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও সাব-এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা অনুমোদিত ২৫টি মূল রিক্রুটিং এজেন্সি এবং একটি সরকারি এজেন্সি রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা থেকে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান বাদ দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

১৬ মেডিক্যাল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা

কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত ১৬টি মেডিক্যাল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে এসব কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। ওই পরিদর্শনের পর মেডিক্যাল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

কর্মীদের সুরক্ষায় মনিটরিং সেল

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় যাওয়া কর্মীদের নিরাপত্তা, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।