নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে আয়োজিত ‘এনআরবি কানেক্ট ডে: এমপাওয়ারিং গ্লোবাল বাংলাদেশি’ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ড. ইউনূস একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতে বিশ্ববাসী দেখেছে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী কার্যক্রমে বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
ফখরুল বলেন, ড. ইউনূস একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতা। তাঁর সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে আছে। তিনি দেশকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে চান, যা ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন। বিএনপি মহাসচিবের মতে, ড. ইউনূসের মাঝে তিনি জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, আগামী পাঁচ মাস পর অনুষ্ঠিতব্য সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, তারা দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। এতে তাঁর সফরসঙ্গী বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ গত ১৫ মাসে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। প্রবাসীদের অবদান বিশেষ করে রেমিট্যান্সে ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির সরকারি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ‘ব্রিজিং বর্ডারস: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ডায়াস্পোরা এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ আরও কয়েকজন। সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারাও অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য তাঁদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সঞ্চালনা করেন আরেকটি প্যানেল আলোচনা—‘শেপিং টুমোরো: দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’। এতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা অংশ নিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। প্রাণবন্ত এ আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংলাপের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।
আপনার মতামত লিখুন :