আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট

ভারতের সঙ্গে ১০ চুক্তি বাতিলের দাবি আসিফের, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার নীরবতা


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২১, ২০২৫, ২:০৯ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার ভোরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন,

“অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনা শুরু হয়। যথাযথ মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে—এই ১০টি চুক্তি বাতিল করা হবে।”

তবে এই ঘোষণার পর থেকেই নীরব রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। সকালে দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি শুধু সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আজ এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না।”

আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট করা ফটোকার্ডে স্পষ্টভাবে লেখা—“হাসিনা সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে করা ১০টি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে, বাকি চুক্তিগুলোকেও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।”

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া প্রকল্প ও চুক্তিগুলোর তালিকায় রয়েছে—

  1. ত্রিপুরা–চট্টগ্রাম রেল সংযোগ প্রকল্প
  2. অভয়পুর–আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ
  3. আশুগঞ্জ–আগরতলা করিডর
  4. ফেনী নদী পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প
  5. বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি
  6. ফারাক্কাবাদ প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতা প্রস্তাব
  7. সিলেট–শিলচর সংযোগ প্রকল্প
  8. পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ চুক্তি
  9. ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (মিরসরাই ও মোংলা আইইজেড)
  10. ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি জিআরএসইর সঙ্গে টাগ বোট চুক্তি

আসিফ মাহমুদ জানান, কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন প্রকল্প বর্তমানে স্থগিত আছে। আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি ও গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা হয়েছে। আর বহুল আলোচিত তিস্তা নদী পানি বণ্টন চুক্তি এখনও খসড়া অবস্থায় আছে এবং বাস্তবায়নের জন্য আলোচনা চলছে।

এই চুক্তিগুলোর বাতিল বা পুনর্বিবেচনা নিয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই এই ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারায় হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—এটি কি কৌশলগত পুনর্বিন্যাস, নাকি নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার সূচনা? সময়ই হয়তো তার উত্তর দেবে।