বিশ্বব্যাপী সালিশে গেল এস আলম গ্রুপ: কোটি কোটি ডলার ক্ষতির অভিযোগে আবেদন


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ৩:৪৮ অপরাহ্ন

বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের (ICSID) দ্বারস্থ হয়েছেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম)।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে এস আলম ও তার পরিবারের আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সালিশি আবেদন দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন তাদের ‘যথেচ্ছ সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও মূল্য ধ্বংসের লক্ষবস্তুতে’ পরিণত করেছে। এ খবর প্রকাশ করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

পত্রিকাটি জানায়, এই সালিশি মামলাটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ এটি শেখ হাসিনার আমলে বিদেশে পাচার হওয়া ‘কোটি কোটি ডলার’ অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টায় ধাক্কা দিতে পারে। সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি জানিয়েছে, দেশে ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, যিনি পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বলেছেন—এস আলম পরিবার দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়েছে। তবে এস আলম এ অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন।

এর আগে গত ডিসেম্বরে এস আলমের আইনজীবীরা সরকারকে ছয় মাস সময় দিয়েছিলেন বিরোধ মীমাংসার জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হওয়ায় তারা আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা আইন প্রতিষ্ঠান Quinn Emanuel Urquhart & Sullivan-এর মাধ্যমে আবেদনটি করা হয়েছে। আবেদনপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার এস আলম পরিবারের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ করেছে, তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে ‘মিথ্যা তদন্ত’ চালাচ্ছে এবং পরিবারটিকে লক্ষ্য করে ‘উসকানিমূলক মিডিয়া প্রচারণা’ পরিচালনা করছে।

এসব কারণে পরিবারটির কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যদিও ক্ষতিপূরণের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

এই সালিশ বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে ২০০৪ সালের দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির অধীনে করা হয়েছে। এস আলম পরিবার বর্তমানে সিঙ্গাপুরের নাগরিক, ২০২০ সালে তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন এবং ২০২১-২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব পান।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, “সালিশি নোটিশ আমাদের কাছে পৌঁছালে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় জবাব দেব।” তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনি লড়াই, যা দেশের ব্যাংকিং খাত ও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।