হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মাঝে আংশিক স্বস্তির ইঙ্গিত, শর্তসাপেক্ষে জাহাজ চলাচলে ছাড় দিতে পারে ইরান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে ইরান। তবে এই সম্ভাব্য স্বস্তি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর—এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান প্রস্তাব দিয়েছে যে, নতুন করে সংঘাত এড়াতে যদি একটি কার্যকর চুক্তি সম্পন্ন হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালির ওমান-সংলগ্ন অংশ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তুলনামূলক নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সাম্প্রতিক অচলাবস্থার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা। মার্কিন প্রশাসনের বার্তা নিয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করেন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। একই সফরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আলোচনায় যুক্ত ছিলেন, যা এই সংলাপকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

আলোচনায় উত্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ওমানের জলসীমা ঘেঁষে একটি নিরাপদ করিডর তৈরি করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। তবে এই প্রস্তাবের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে। বিশেষ করে—সমুদ্রপথে স্থাপন করা মাইন অপসারণ করা হবে কি না, অথবা ইসরায়েল-সম্পর্কিত জাহাজগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই প্রস্তাব মূলত একটি কৌশলগত সংকেত, যা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দেয়। তবে এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো কতটা গ্রহণযোগ্য মনে করে তার ওপর।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগর এলাকায় শতাধিক জাহাজ ও হাজারো নাবিক আটকা পড়ে আছেন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে, ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে অনেকেই ‘পরীক্ষামূলক কূটনৈতিক অগ্রগতি’ হিসেবে দেখছেন। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য এখনো বহুপাক্ষিক আস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।