জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় কমেছে ক্রেতা, টিকে থাকতে লড়ছে ব্যবস্থাপনা

জ্বালানি সংকটে দর্শনার্থী কমে ধাক্কায় ‘প্রজেক্ট হিলশা’


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন

জ্বালানি তেলের চলমান সংকটের প্রভাবে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় অবস্থিত ব্যতিক্রমধর্মী রেস্তোরাঁ প্রজেক্ট হিলশা-তে দেখা দিয়েছে গ্রাহক সংকট। একসময় যেখানে প্রতিদিন উপচে পড়া ভিড় থাকত, বর্তমানে সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল পরিসরের এই রেস্তোরাঁয় কর্মচারীর উপস্থিতি থাকলেও গ্রাহকের সংখ্যা খুবই সীমিত। বিকেলের ব্যস্ত সময়েও অনেক সময় কোনো ক্রেতা প্রবেশ করছেন না। সন্ধ্যার পর অল্প কিছু দর্শনার্থী এলেও তাদের বেশিরভাগই খাবার না খেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এই রেস্তোরাঁর অন্যতম আকর্ষণ ‘ওপেন কিচেন’, যেখানে অতিথিদের সামনে ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ রান্না করা হয়। তবে বর্তমানে সেই অংশেও নেই আগের প্রাণচাঞ্চল্য। সাজানো খাবার থাকলেও ক্রেতার অভাবে রান্নার কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং সরবরাহ সংকটের কারণে দূরবর্তী এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে আসা গ্রাহকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি খাবারের দাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নেতিবাচক ধারণাও ব্যবসায় প্রভাব ফেলছে বলে দাবি তাদের।

কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্রি কমে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় যেখানে শতাধিক কর্মী কাজ করতেন, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ জনে। তবুও মালিকপক্ষ নিয়মিত বেতন দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, রেস্তোরাঁর অভ্যন্তরে ক্রেতা কম থাকলেও বাইরের অংশে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই স্থাপনাটির নান্দনিক নকশা দেখতে বা ছবি তুলতে আসছেন। শিমুলিয়া ও মাওয়া ঘাটের নিকটবর্তী হওয়ায় আশপাশের অন্যান্য খাবারের দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

প্রায় ৩৫০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকা এই রেস্তোরাঁয় ইলিশের বিভিন্ন পদসহ দেশি-বিদেশি নানা ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারমূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে খাবারের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকটের মতো বহিরাগত অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ ধরনের উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।