সাবেক মেয়রের মায়ের নামে নির্মিত ‘শাহান আরা পার্ক’ অপসারণ শুরু


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ১৫, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

বরিশাল নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘শাহান আরা পার্ক’ অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ওপর নির্মিত পার্কটির অবশিষ্ট অংশ বুধবার সকাল থেকে ভেঙে ফেলা শুরু হয়।

নগর প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের উপস্থিতিতে নগরীর সিএন্ডবি রোড চৌমাথা লেকসংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মীরা।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দিন ও পরদিন বিক্ষুব্ধ জনতা পার্কটির বড় একটি অংশ ভাঙচুর করে। এরপর সিটি করপোরেশন ও সড়ক ও জনপদ বিভাগের মধ্যে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অবশিষ্ট অংশ অপসারণ কার্যক্রম দীর্ঘদিন আটকে ছিল।

অবশেষে প্রায় দুই বছর পর মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পার্কটির অবশিষ্ট অংশ উচ্ছেদ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সিএন্ডবি রোড এলাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমিতে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণ করা হয়। পার্কটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহান আরা পার্ক’। এটি নির্মাণ করা হয় তৎকালীন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মায়ের নামে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে পার্কটি নির্মাণের সময় ব্যাপক বিরোধিতা হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। সে সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি বলেও দাবি করেন তারা।

গণঅভ্যুত্থানের পর স্থানীয়দের মধ্যে পার্কটি পুরোপুরি অপসারণের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। পরে ছাত্র-জনতা বুলডোজার দিয়ে পার্কটির কিছু অংশ ভেঙে দেয়। এরপর থেকে অবশিষ্ট অংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ব্যস্ততম ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার স্বার্থে অবশিষ্ট অংশ সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর যেসব স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছিল, সেগুলো স্থায়ীভাবে অপসারণের দাবি ছিল সাধারণ মানুষের। সেই দাবির প্রতিই সম্মান জানিয়ে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযান চলাকালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারীসহ সাবেক কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।