ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সাভার ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক এবং আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-ডিইপিজেড সড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ধীরগতির যান চলাচল দেখা গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা থেকে জিরানী পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। জিরানী, কবিরপুর, বাড়ইপাড়া ও জুম্মআ ঘরসহ একাধিক পয়েন্টে যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে স্বাভাবিক যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১০ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর, উল্লাইল, গেন্ডা ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং যাত্রীদের ভিড়ে এসব এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি।
এস কে পরিবহনের চালক আলাউদ্দিন জানান, গাবতলী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত আসতে তার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। তিনি বলেন, “হেমায়েতপুর, আমিনবাজার ও নবীনগর পেরিয়ে চন্দ্রায় এসে সবচেয়ে বেশি যানজটে পড়তে হয়েছে।”
এদিকে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন যাত্রীরা। বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ যাত্রী সুমন হাওলাদার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পরিবহন স্বাভাবিক ভাড়ার কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি করছে। তার ভাষায়, “প্রশাসনের সামনেই দর কষাকষি চলছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।”
আরেক যাত্রী মজিদ বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত যানবাহন না পেয়ে বাধ্য হয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রা করতে হয়েছে। তিনি জানান, বেশিরভাগ যানবাহন দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছে।
বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে শত শত যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে বাস না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান কিংবা বাসের ছাদে চড়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাভার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ শেখ শাজাহান বলেন, “মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট তৈরি হয়েছে এবং তা নিরসনে পুলিশ কাজ করছে।”
ঢাকা জেলা (উত্তর) ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে অতিরিক্ত ৬৫০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গার্মেন্টস শ্রমিকদের যাতায়াতের কারণে বাইপাইল ও নবীনগর এলাকায় যাতে দীর্ঘপাল্লার বাস সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও সড়ক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন সংকট এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীসেবায় কার্যকর তদারকি ও সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :