মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বান্দরবানের থানচি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ৪৭ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও ১১ জন শিশু রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতওয়া এলাকার কয়েকটি গ্রাম থেকে আসা এসব ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করেন। পরে শুক্রবার বিকেলে তারা থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হৈকো খুমি পাড়ার বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে বলিপাড়া জোনের অধীন ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ছোট মধু বিওপির একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন হাবিলদার মিজানুর রহমান।
স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সরকারি বাহিনী, আরাকান আর্মি, আরসা (ARSA) এবং আরএসও (RSO)-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে খুমি জনগোষ্ঠীর অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রাণ ও সম্পদের নিরাপত্তার আশঙ্কায় কিছু পরিবার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয়ের চেষ্টা করেছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, নাগরিকত্ব ও অনুপ্রবেশের কারণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতিমালা ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার বলেন, আটক ৪৭ জনের বিষয়ে থানার কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য এখনও পৌঁছেনি। বিজিবি তাদের থানায় হস্তান্তর করলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন ও চিন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলমান রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে খুমি, খেয়াং, বম ও রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। ২০১৯ সালে বান্দরবানের রুমা উপজেলার চাইক্ষাং সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে মিয়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ২০৩ জন আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
নতুন করে এই অনুপ্রবেশের ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :