যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ন

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, হামলার পর বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ৫ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ০২ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪ দশমিক ৫৬ ডলার হয়েছে।

এদিকে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে বহুল ব্যবহৃত মুরবান ক্রুড-এর দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এটি ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫৭ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ২২০ ডলার হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চাবাহার বন্দরের সামরিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে হামলা চালায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী সমুদ্রপথে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর রয়েছে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ এবং সমুদ্রপথে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে কি না, তার ওপর। এসব পরিস্থিতির ওপরই আগামী কয়েক দিনের আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।