:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
ট্রাম্পের শুল্কে সুরাটের হীরা শিল্পে অন্ধকার নেমেছে। দীপাবলির আলোয় সারা ভারত উজ্জ্বল হবে, কিন্তু গুজরাটের সুরাট শহরে কালপেশ প্যাটেলের হীরা কারখানার বাতি চিরতরে নিভে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার আট বছরের পুরনো কারখানায় ৪০ জন শ্রমিক কাজ করেন, যারা রুক্ষ হীরাকে কেটে পালিশ করে বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের ঘোষণা এই কারখানার জন্য শেষ আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কালপেশের এই গল্প আসলে সুরাটের ২০ হাজার হীরা কারখানারই প্রতিচ্ছবি। বিশ্বের ৯৩ শতাংশ প্রাকৃতিক হীরা কাটা-জোড়ার কাজ হয় এই শহরে। ট্রাম্পের এই শুল্ক ঘোষণাকে শিল্প সংশ্লিষ্টরা ‘কফিনের শেষ পেরেক’ বলে বর্ণনা করছেন। “দীপাবলির অর্ডারগুলো শেষ করার চেষ্টা করব, কিন্তু তারপর কী হবে জানি না,” বলছেন হতাশ কালপেশ।
এই শুল্ক বৃদ্ধির পেছনে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের ক্ষোভ, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ খাতে মার্কিন প্রবেশাধিকার না দেওয়াকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। এর ফলে হীরার উপর শুল্ক ২.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫২.১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২৬ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
সুরাটের হীরা শিল্প ইতিমধ্যেই কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই নতুন এই সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। গুজরাট ডায়মন্ড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে এই শিল্পের ২০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা সংকটে পড়েছে এবং অন্তত ৮০ জন হীরাকর্মী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। হংকং ও চীনের বাজারেও ভারতীয় হীরার চাহিদা কমেছে বলে জানান ইউনিয়ন নেতারা।
“এটি কেবল শুল্ক বৃদ্ধির বিষয় নয়, এটি একটি বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা মাত্র,” বলেছেন বাণিজ্য বিশ্লেষক অজয় শ্রীবাস্তব। সুরাট শহর, যাকে ‘ভারতের হীরা নগরী’ বলা হয়, তার উজ্জ্বল ইতিহাস আজ প্রশ্নের মুখে। দীপাবলির আলো যেখানে সারা দেশকে উজ্জ্বল করে, সেখানে সুরাটের হীরা শ্রমিকদের চোখে আজ শুধুই অন্ধকারের ছায়া। প্রশ্ন সবাইকের – ট্রাম্পের এই শুল্ক কি নিভিয়ে দেবে ভারতের রত্নশিল্পের দীপশিখা?
আপনার মতামত লিখুন :