:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ এ শুনানি পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ, অন্যদিকে আসামি পক্ষে বক্তব্য রাখছেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। বিএনপির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনসহ একাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গত ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দিলে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, নিম্ন আদালতের বিচার প্রক্রিয়া আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং শেখ হাসিনাসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর নিম্ন আদালত বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।
আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে আদালতে মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ছিল, হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে আইনের সঠিক ব্যাখ্যা দেয়নি। অন্যদিকে আসামি পক্ষ দাবি করে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবীরা জানান, শুনানি কয়েকদিন ধরে চলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
এদিকে মামলার অন্যতম আসামি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বেশ কয়েকজন বিদেশে পলাতক রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নেতারা রয়েছেন। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ বেশ কয়েকজনও দেশের বাইরে রয়েছেন। এই মামলার চূড়ান্ত রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :