:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
ওয়াশিংটন: আবারও পদচ্যুত হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। এবার চাকরি হারালেন পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেফরি ক্রুজ, মার্কিন নৌ রিজার্ভের প্রধান এবং নৌবাহিনীর স্পেশাল ওয়ারফেয়ার কমান্ডের কমান্ডার। শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সামরিক বাহিনীতে তার অপছন্দের কর্মকর্তাদের অপসারণ চলছে ধারাবাহিকভাবে। ক্রুজসহ এই তিন কর্মকর্তার বরখাস্তও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ক্রুজকে কোন কারণ দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অপসারণের কারণ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। এ ঘটনায় মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির ভাইস চেয়ার মার্ক ওয়ার্নার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যকে দেশ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে না দেখে কেবল আনুগত্য পরীক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা ট্রাম্প প্রশাসনের বিপজ্জনক অভ্যাস—ক্রুজের অপসারণ সেটির আরেকটি দৃষ্টান্ত।”
এর আগে এপ্রিলে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান জেনারেল টিমোথি হগসহ হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডজনখানেক কর্মকর্তাকে পদচ্যুত করেছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই পেন্টাগনের একের পর এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিচ্ছেন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার একটি মূল্যায়ন ফাঁস হয়ে গণমাধ্যমে চলে আসে, যেখানে বলা হয়েছিল—ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলায় তেহরানের কর্মসূচি মাত্র কয়েক মাস পিছিয়েছে। অথচ একই সময়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হামলায় ইরানের স্থাপনাগুলো “গুঁড়িয়ে দেওয়া” হয়েছে। ওই মূল্যায়ন ফাঁস হওয়ায় ট্রাম্পের অসন্তোষই কি ক্রুজের বরখাস্তের পেছনে কারণ—সে প্রশ্ন এখন জোরালো হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :