“আমার ভাই কীভাবে মরলো, এখনো কিছুই জানি না”—কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভারতী সরকার। অফিস যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে লাশ হয়ে ফিরে এলেন সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার।
শনিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর ‘অপ্সরা’ ভাড়া বাসায় তার মরদেহ পৌঁছালে শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। স্ত্রীর কান্না, স্বজনদের আহাজারি আর সহকর্মী-বন্ধুদের ভিড়ে মুহূর্তেই শোকের ছায়া নেমে আসে বাসায়।
খেলাঘরের প্রেসিডিয়াম অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দিন আহমেদ বলেন,
“আমরা তো উনার লেখার ভক্ত। তার মতো খ্যাতিমান সাংবাদিকের এমন বিদায় মেনে নেওয়া কষ্টের।”
বগুড়া থেকে ছুটে আসা বোন ভারতী সরকার বলেন,
“আমার ভাই কীভাবে মরলো, এখনো কিছুই জানি না।”
ভাই চিররঞ্জন সরকার জানান, মরদেহ বাসাবোর সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরে নেওয়া হবে এবং সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
৭১ বছর বয়সী বিভুরঞ্জন সরকার চাকরি করছিলেন ‘আজকের পত্রিকা’য়। বৃহস্পতিবার সকালে অফিসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন বিকালে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ আনা হয় ঢাকায়।
তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন মাধ্যমে কলাম লিখতেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মতামত পাতাতেও লিখতেন তিনি। সর্বশেষ নিবন্ধটি বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে পাঠান তিনি। সেখানে ফুটনোটে লিখে গিয়েছিলেন—
“জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন।”
শুক্রবার তার সেই লেখা ‘খোলা চিঠি’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। তাতে তিনি নিজের ও পরিবারের অসুস্থতা, মেয়ের উচ্চতর পরীক্ষায় ব্যর্থতা, ছেলের বেকারত্ব এবং আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করেন।
ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার জানান, নানা কারণে হতাশায় ছিলেন বিভুরঞ্জন। বৃহস্পতিবার বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি নিজের মোবাইল ফোনও রেখে গিয়েছিলেন। রাতে ফেরত না আসায় ছেলে ঋত সরকার রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পারিবারিক বন্ধু ও ব্যাংকার আসাদুজ্জামান মুকুল বলেন,
“বিভুরঞ্জন সরকারের লেখা পড়েই তো আমাদের বেড়ে ওঠা। তার মতো মেধাবী সাংবাদিক যেভাবে মারা গেলেন এবং শেষ লেখায় যে বার্তা দিয়ে গেলেন—তা আমাদের সাংবাদিকতা পেশার সংকট নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।”
আপনার মতামত লিখুন :