জেন–জির বিক্ষোভ

নেপালে সহিংস বিক্ষোভে মন্ত্রীদের হেলিকপ্টারে নাটকীয় উদ্ধার


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫, ৩:৩৬ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নেপালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে উত্তেজিত জনতা একাধিক মন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ সরকারি নেতাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এমনকি প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার দিনভর সহিংসতায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন একাধিক মন্ত্রী ও তাদের পরিবার। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে দড়ি ফেলে তাদের নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মন্ত্রীরা পরিবারসহ দড়ি আঁকড়ে ধরে হেলিকপ্টারে উঠছেন। পরে তাদের নিরাপদে কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে নামানো হয়।

বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ঘিরে। জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে তরুণরা আন্দোলনে নেমে দ্রুত তা সহিংসতায় রূপ নেয়। অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুরে রাজধানী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগে বাধ্য হন কেপি শর্মা ওলি। সেনাবাহিনী জরুরি কারফিউ জারি করে রাজধানীতে টহল শুরু করেছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান টার্গেটে ছিলেন মন্ত্রীরা। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী পৃথী সুব্বা গুরুঙ্গের বাড়িতে আগুন, অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পাউডেলের বাড়িতে ভাঙচুর, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গভর্নর বিশ্ব পাউডেলের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় অর্থমন্ত্রী পাউডেলকে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা ও তার স্বামী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাকে বিক্ষুব্ধ জনতা মারধর করছে। রক্তাক্ত দেউবাকে মাঠে অসহায় বসে থাকতে দেখা যায়, পরে সেনারা তাকে উদ্ধার করে।

বর্তমানে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে অস্থির পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা নিয়ে শঙ্কায় দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহল। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুচিলা কার্কির নাম আলোচনায় আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি