উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূলে সুদানি শরণার্থী বহনকারী একটি নৌকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, নৌকাটিতে মোট ৭৫ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
জাতিসংঘের এ সংস্থা জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আইওএম এক বিবৃতিতে বলেছে, সমুদ্রপথে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপমুখী শরণার্থীদের এই বিপজ্জনক যাত্রা নতুন নয়। মাত্র এক মাস আগে ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ৬৮ শরণার্থী প্রাণ হারায়। আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, শুধু গত বছরই ভূমধ্যসাগরে দুই হাজারের বেশি অভিবাসী ও শরণার্থী নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছে। এদের অনেকেই শরণার্থী শিবিরে অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় নির্যাতন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে সহযোগিতা দিলেও তাদের সঙ্গে স্থানীয় মিলিশিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপের দেশগুলো সরকারি উদ্ধার অভিযান সীমিত করায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে পালানো হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :