বাঁশকে বলা হয় ‘Green Gold’ বা সবুজ সোনা। আশ্চর্যের বিষয়, বাঁশ আদৌ গাছ নয়, বরং ঘাস পরিবারের বৃহত্তম সদস্য। পৃথিবীতে ১,৬৭৮ প্রজাতির বাঁশ রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশেই ৩০-৪০ প্রজাতি দেখা যায়। দ্রুত বর্ধনশীল এ উদ্ভিদ দিনে সর্বোচ্চ তিন ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। মাত্র চার-পাঁচ বছরের মধ্যেই বাঁশ ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে, আবার কেটে নেওয়ার পর গোড়া থেকে নতুন বাঁশ জন্মায়। অনন্য এই জীবনচক্র চলতে থাকে বাঁশঝাড়ে ফুল আসা পর্যন্ত, যা সাধারণত শতাব্দীতে একবার ঘটে। বৈজ্ঞানিকভাবে এখনো এর রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন করা যায়নি।
বাঁশ শুধু দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস তৈরিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি কাঠের বিকল্প হিসেবে আধুনিক স্থাপত্য, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, ফার্নিচার, এমনকি কাগজ ও টেক্সটাইল শিল্পেও বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। খাদ্য হিসেবেও বাঁশের কচি অঙ্কুর (বাঁশ কোড়ল) জনপ্রিয়। গবেষণা বলছে, বাঁশ অন্যান্য গাছের তুলনায় ২০-৩৫ শতাংশ বেশি অক্সিজেন উৎপাদন করে এবং অধিক হারে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ বহু দেশ বাঁশকে শিল্পায়নের স্তরে নিয়ে গেছে। সম্প্রতি ভারতের আসামে বিশ্বের প্রথম বাঁশভিত্তিক 2G বায়োইথানল প্ল্যান্ট চালু হয়েছে, যা টেকসই শক্তি উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বৈশ্বিক বাজারে বাঁশের বর্তমান মূল্য প্রায় ৭০-৮০ বিলিয়ন ডলার, যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও আবহাওয়া বাঁশের জন্য অনুকূল হলেও পরিকল্পনার অভাব ও নির্বিচার কাটার কারণে এই ‘সবুজ সোনা’ থেকে আমরা পুরোপুরি উপকৃত হতে পারছি না।
তবে বাঁশ নিয়ে আমাদের আরেকটি সামাজিক ব্যঙ্গার্থও আছে—‘বাঁশ খাওয়া’ বা ‘বাঁশ দেওয়া’। অথচ প্রকৃত অর্থে বাঁশ আমাদের বিনয় শেখায়। চীনা প্রবাদে বলা হয়, “Like Bamboo, the higher you grow, the lower you bow”। অর্থাৎ, যত উঁচুতে ওঠো, তত বিনয়ী হও। তাই আসুন, বাঁশকে কেবল ব্যঙ্গার্থে নয়, বরং সম্ভাবনা, টেকসই উন্নয়ন ও বিনয়ের প্রতীক হিসেবে দেখি।
আপনার মতামত লিখুন :