অবরুদ্ধ গাজা যেন রক্তে ভেজা এক ভূখণ্ড। প্রতিদিনই বাড়ছে লাশের সারি, দীর্ঘ হচ্ছে আহতের তালিকা। সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে গত প্রায় দুই বছরের অভিযানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৫ হাজার ১৪১ জনে, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৫ জন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা, অথচ উদ্ধার করার মতো সরঞ্জাম কিংবা জনবল নেই।
গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু বিমান ও স্থল হামলাতেই ক্ষান্ত হয়নি ইসরায়েলি সেনারা; মানবিক সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষও রক্ষা পাননি। সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরও ৩৩ জন। শুধু ২৭ মে থেকে এভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৫১৩ জন, আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৪১৪ জনের বেশি।
গাজার শিশুদের দুর্দশা আরও মর্মান্তিক। অপুষ্টি ও অনাহারে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও চারজনের, এর মধ্যে একটি শিশু। অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত না খেয়ে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩৫ জনে, যার মধ্যে রয়েছে ১৪৭টি শিশু।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কিংবা গণহত্যার মামলার মুখোমুখি হওয়া—কিছুই যেন ইসরায়েলি আগ্রাসন থামাতে পারছে না। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পরোয়ানা জারি করেছিল। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও গণহত্যার মামলা চলছে।
তবুও গাজায় প্রতিদিনই বাড়ছে শোক, ব্যথা আর রক্তের হিসাব। বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইলেও অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য শান্তি এখনো অধরাই।
আপনার মতামত লিখুন :