খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

খাগড়াছড়িতে থমথমে পরিস্থিতি, ১৪৪ ধারা জারি


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫, ২:৪৬ অপরাহ্ন

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পর কয়েকদিনের অবরোধ, মিছিল ও সহিংসতায় পুরো জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ এলাকা, মহাজন পাড়া, নারিকেল বাগান, চেঙ্গী স্কোয়ার ও শহীদ কাদের সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় নারিকেল বাগান ও স্বনির্ভর এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে হামলা চালানো হয়।

পরিস্থিতি অবনতির জেরে খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ধারা বলবৎ রয়েছে। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও এপিবিএন মোতায়েন করা হয়েছে। সহিংসতায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর একজনকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাতে বৌদ্ধবিহারে নাশকতার প্রস্তুতিকালে তিন যুবককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সহিংসতার কারণে সাজেক ভ্রমণে যাওয়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়লেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের খাগড়াছড়ি হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরিয়ে আনা হয়। এর আগে অবরোধ চলাকালে বিভিন্নস্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। এসময় আলুটিলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ও নারানখাইয়া এলাকায় একটি অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় শয়ন শীল (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে; তবে কিছুক্ষণ পর ফের অবরোধ পালনের আহ্বান জানানো হয়।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।