গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন

ঢাকার চার অভিজাত এলাকা নীরব ঘোষণা: নতুন নগর বাস্তবতার সূচনা


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২, ২০২৫, ৮:১৫ অপরাহ্ন

রাজধানী ঢাকার চার অভিজাত আবাসিক এলাকা—গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন—এখন থেকে ‘নীরব এলাকা’। শব্দদূষণের লাগাম টেনে ধরতে এবং বাসিন্দাদের জন্য শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া অফিস আদেশ অনুযায়ী, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ এর বিধি-৪ অনুসারে এই ঘোষণার কার্যকারিতা শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর থেকে। এর ফলে এসব এলাকায় অযথা হর্ন বাজানো, অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি বা সহনীয় মাত্রার বাইরে যেকোনো শব্দ কার্যত নিষিদ্ধ হবে।

ডিএনসিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হলেও আগামী বছর থেকে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “যানবাহনের হর্নের যন্ত্রণায় এতদিন মানুষের জীবন দুর্বিষহ ছিল। বহুদিন ধরেই এই দাবিটি আমরা তুলে ধরছিলাম। এবার সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্ত আমাদের স্বস্তি এনে দিল।”

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক মানও বিষয়টির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২১ সালে জানায়, আবাসিক এলাকায় দিনে শব্দের আদর্শ সীমা ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল হওয়া উচিত। অতিরিক্ত শব্দ হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অথচ ঢাকার বেশিরভাগ এলাকায় এই মাত্রা অনেকটাই অতিক্রম করে, যেখানে প্রধান উৎস যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজের শব্দ এবং জেনারেটরের গর্জন।

এখন পর্যন্ত ঢাকার যে এলাকাগুলোকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা, সচিবালয়, আগারগাঁও, সংসদ ভবন ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এবার যুক্ত হলো রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ত ও মর্যাদাপূর্ণ চার আবাসিক এলাকা।

ডিএনসিসির এই পদক্ষেপ কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি নগরবাসীর জীবনে সুশৃঙ্খলতা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার এক বড় পদক্ষেপ। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যদি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে গুলশান–বনানী–বারিধারাকে মডেল করে পুরো শহরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের এক নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।