আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বুধবার (৮ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে গুম সংক্রান্ত দুই মানবতাবিরোধী মামলার অভিযোগ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী দল ও মতের ব্যক্তিদের গুম করে র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল ও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি)-তে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
প্রথম মামলায় শেখ হাসিনাকে বাদে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, গুম ও নির্যাতনের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, হারুন অর রশিদ, আনোয়ার লতিফ খান, লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেমসহ অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা।
দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনা সহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় তারা র্যাব ও সেনা কর্মকর্তাদের সাথে মিলে জেআইসিতে গুম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখোমুখি। এর মধ্যে ৪ জন এখনও সেনা পদে কর্মরত রয়েছেন, তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশোধিত আইন অনুযায়ী তারা আর কোনো পদে থাকতে পারবেন না বলে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বহু মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের এখনো খোঁজ মেলেনি, কেউ কেউ নিহত হয়ে মরদেহও গুম করা হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনার পতনের পর কিছু গুমের শিকার বন্দিশালা থেকে মুক্তি পান।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও প্রসিকিউশন দাখিলের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম শুরু করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :