জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস

আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ, কমানো হচ্ছে ১৪ হাজার শান্তিরক্ষী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৯, ২০২৫, ৩:৪৮ অপরাহ্ন

গুরুতর তহবিল সংকটের মুখে পড়েছে জাতিসংঘ। ফলে সংস্থাটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান নয়টি শান্তিরক্ষা মিশন থেকে ১৩ থেকে ১৪ হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

বর্তমানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যতসংখ্যক সদস্য নিয়োজিত আছেন, নতুন সিদ্ধান্তে তার প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে যাবে। এতে বহু বেসামরিক কর্মীর চাকরিও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস জানান, সংস্থাটি তার ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে মারাত্মক অর্থ সংকটে পড়েছে। কার্যকারিতা বজায় রাখতে ও ব্যয় কমাতে তাই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বাধিক অর্থায়নকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যারা মোট বাজেটের প্রায় ২৬ শতাংশ দেয়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীন দেয় ২৪ শতাংশ। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার বকেয়া পড়ে আছে, যা বড় ধরনের অর্থ সংকট তৈরি করেছে।

নতুন অর্থবছর শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ১.৫ বিলিয়ন ডলার বকেয়া ছিল, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ১.৩ বিলিয়ন ডলার। যদিও দেশটি জানিয়েছে, শিগগিরই ৬৮০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে, তবে তাদের জাতিসংঘ মিশন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত আগস্টে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ৮০০ মিলিয়ন ডলার শান্তিরক্ষা তহবিল বাতিল করেন। তার প্রশাসন ২০২৬ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা তহবিল সম্পূর্ণ বাতিলেরও প্রস্তাব দেয়, দাবি করে যে মালি, লেবানন ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মিশনগুলো ব্যর্থ হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, কসোভো, সাইপ্রাস, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম সাহারা, গোলান মালভূমি (ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্ত) ও আবিয়াই (দক্ষিণ সুদান-সুদান সীমান্ত) অঞ্চলের শান্তিরক্ষা মিশনগুলো প্রভাবিত হবে।

উল্লেখ্য, এসব মিশনের বেশ কয়েকটিতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরাও নিয়োজিত আছেন।

সূত্র: রয়টার্স